বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশের অপেক্ষায় ইমরান হাশমির আওরাপন ২

বক্স অফিসে যেন জাদুকরী ঘূর্ণি তুলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওরাপন ২’। গত ১৪ আগস্ট মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া এই সিনেমাটি এখন বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটি রুপির আভিজাত্যপূর্ণ ক্লাবে পা রাখার দ্বারপ্রান্তে। মুক্তির দশম দিনে এসে ছবিটি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ থেকে মাত্র ৮ কোটি রুপি দূরত্বে অবস্থান করছে, যা ঘিরে শোবিজ পাড়ায় এখন নতুন করে উত্তেজনা।
পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় সপ্তাহান্তের শেষে সিনেমাটির আয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গত রোববার ভারতীয় বাজারে ছবিটি নেট আয় করেছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে ভারতে সিনেমাটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে, যার গ্রস সংগ্রহ ১৬২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। আন্তর্জাতিক বাজারেও ‘আওরাপন ২’-এর জয়জয়কার অব্যাহত; বিদেশের বক্স অফিস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয়ের সুবাদে বিশ্বব্যাপী এর মোট গ্রস সংগ্রহ পৌঁছেছে ১৯২ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে।
সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা ধীরগতির আভাস দিলেও, শনিবারের পর থেকেই দর্শক টানার ক্ষেত্রে দারুণ চমক দেখিয়েছে ছবিটি। শুক্রবারের তুলনায় শনিবারে আয়ের হার প্রায় ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে পৌঁছায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের শো গুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সানি দেওলের ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হলেও, এখন পর্যন্ত সাফল্যের নিরিখে ‘আওরাপন ২’ অনেকখানি এগিয়ে থেকে ২০২৬ সালের অন্যতম সফল সিনেমার তকমা নিজের করে নিয়েছে।
নিতিন কাক্কর পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০০৭ সালের কালজয়ী ছবি ‘আওরাপন’-এর সিক্যুয়েল। মূলত নস্টালজিয়া এবং প্রথম কিস্তির সেই আইকনিক চরিত্র শিবম পণ্ডিতের টান দর্শকদের হলে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ ভাটের প্রযোজনায় ইমরান হাশমির সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন দিশা পাটানি ও শাবানা আজমি। এছাড়াও পুরান গাব্বি, সুভিন্দর ভিকি, বিজয়ন্ত কোহলি ও রুখসার রহমানসহ একঝাঁক তারকা তাদের বলিষ্ঠ অভিনয়ে প্রাণ দিয়েছেন গল্পটিতে। বিশেষ উপস্থিতি হিসেবে শ্রিয়া শরণ ও শাদ রন্ধাওয়ার অন্তর্ভুক্তি দর্শকদের মনে বাড়তি আবেগের খোরাক জুগিয়েছে।
সিনেমার প্রথমার্ধের ধীরগতি কিংবা খলনায়কের দুর্বলতা নিয়ে কিছু সমালোচনা থাকলেও, ইমরান হাশমির অভিনয়ের ধার এবং আবেগঘন চিত্রনাট্য দর্শকদের মুগ্ধ করতে ভুল করেনি। প্রথম ছবির উত্তরাধিকারকে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতারা, যা বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের দৃষ্টিতেও প্রশংসার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
