রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে অসহায় বিধবার আর্তি, সুদীপ্তার আহ্বানে রীতার পাশে সাংসদ দেব

শোবিজের চাকচিক্যময় পর্দার আড়ালেও মাঝে মাঝে উঁকি দেয় বাস্তব জীবনের নিষ্ঠুর সব ট্র্যাজেডি। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মী লাভ’-এর মঞ্চে এমনই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সাক্ষী হলেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার রাঙামাটি গ্রামের আলুচাষী রাখাল আরির অকাল প্রয়াণ এবং তার বিধবা স্ত্রী রীতা আরির অসহনীয় যন্ত্রণার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো স্টুডিও। ঋণের চাপে জর্জরিত স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার পর থেকেই রীতার জীবন এখন শুধুই এক অন্তহীন লড়াইয়ের নাম।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই নাবালক সন্তান এবং অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে দিশেহারা রীতা। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে স্বামীর মৃত্যু সনদের জন্য সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে জুতো ক্ষয়ের অভিজ্ঞতা। রীতা আক্ষেপ করে জানান, প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে শেষ সম্বল গবাদি পশুও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। অথচ একটি সরকারি কাগজের অভাবে বিধবা ভাতা কিংবা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন না তিনি।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া রীতার এই আর্তি হৃদয় স্পর্শ করেছে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর। তিনি শুধু সমবেদনা জানিয়েই থেমে থাকেননি, ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও সহকর্মী দীপক অধিকারী অর্থাৎ দেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। সুদীপ্তার অনুরোধ ছিল, এই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার। জনপ্রিয় তারকা দেবও সাড়া দিতে দেরি করেননি। সাংসদের টিমের পক্ষ থেকে বিষয়টির দ্রুত সমাধানের আশ্বাস আসায় রীতার জীবনে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
তবে রীতার এই একক লড়াই নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চাষিদের দুরবস্থা ও কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সুদীপ্তা। আলুচাষীদের করুণ পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাজার দরের এই অমানবিক তারতম্যই বহু কৃষককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রীতাকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করলে চলবে না; বরং পরিবারের হাল ধরতে রীতাকেই হতে হবে এই লড়াইয়ের প্রকৃত নেতৃত্ব। সুদীপ্তার এই মানবিক উদ্যোগ ও দেবের দ্রুত তৎপরতা যেন শোবিজের গ্ল্যামারের বাইরে এক বৃহত্তর সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
