নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচ সিরিজ ও তাদের আকাশচুম্বী বাজেটের ইতিবৃত্ত

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দাপুটে যুগে রাজত্ব ধরে রাখতে মৌলিক কনটেন্টের ওপর বাজি ধরার ক্ষেত্রে নেটফ্লিক্স যেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। দর্শকদের চোখধাঁধানো ভিএফএক্স, রাজকীয় সেট এবং সিনেমাটোগ্রাফির জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করতেও কার্পণ্য করছে না প্ল্যাটফর্মটি। ফ্লিক্সপ্যাট্রোলের তথ্যমতে, নেটফ্লিক্সের এমন পাঁচটি সিরিজ রয়েছে, যা বাজেটের দিক দিয়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালিকায় সবার উপরে রয়েছে বিশ্বখ্যাত সায়েন্স-ফিকশন ও হরর ঘরানার সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর চতুর্থ সিজন। হকিন্স শহরের রহস্যময় ‘আপসাইড ডাউন’ জগৎকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে প্রতি পর্বে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই সিজনের পেছনে মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে নেটফ্লিক্স, যা সিরিজটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘থ্রি বডি প্রবলেম’-এর প্রথম সিজন মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। মহাজাগতিক রহস্য আর জটিল পদার্থবিজ্ঞানের থিওরিকে পর্দায় জীবন্ত করতে গিয়ে এটি নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডেবিউ সিরিজের মর্যাদা পেয়েছে। এই সিরিজের প্রথম সিজনের পেছনে মোট ২৩৩.১ মিলিয়ন ডলার ঢেলেছে স্ট্রিমিং জায়ান্টটি।
ফ্যান্টাসি ঘরানার অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য উইচার’-এর দ্বিতীয় সিজনও বাজেটের বিচারে পিছিয়ে নেই। দানব শিকারি জেরাল্ট অব রিভিয়ারকে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দর্শকের সামনে হাজির করতে অ্যাকশন দৃশ্য ও জাদুকরি প্রাণীর অ্যানিমেশনে ব্যাপক অর্থায়ন করা হয়। এই সিজনের বাজেট ছিল ১৭৬.৩ মিলিয়ন ডলার।
নিল গেইম্যানের কালজয়ী কমিক বই অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য স্যান্ডম্যান’-এর প্রথম সিজন পরাবাস্তব জগতকে ফুটিয়ে তোলার লড়াইয়ে সফল। স্বপ্নের দেবতার এই জগতকে বাস্তব রূপ দিতে স্পেশাল ইফেক্টের পেছনে করা হয়েছে বড় অংকের বিনিয়োগ। দর্শকদের স্বপ্নপুরীর স্বাদ দিতে নেটফ্লিক্স খরচ করেছে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার।
সবশেষে রয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের গরিমা ও ইতিহাসের সাক্ষী সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’-এর পঞ্চম সিজন। নব্বইয়ের দশকের রাজকীয় আবহ, চোখধাঁধানো পোশাক এবং রাজপ্রাসাদের নিখুঁত সেট তৈরিতে কোনো আপস করেনি প্রযোজনা সংস্থা। আভিজাত্য আর রাজকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই সিজনে খরচ হয়েছে ১৪৪ মিলিয়ন ডলার। বিশাল বাজেটের এই আয়োজনগুলোই বর্তমান বিনোদন জগতের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
