প্রয়াত তিনবারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রাজা সেন শোকস্তব্ধ স্ত্রী পাপিয়া সেন

টালিউডের আঙিনায় শোকের ছায়া। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র মধ্যমণি, দর্শকদের প্রিয় ‘ঠাম্মি’ খ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পাপিয়া সেনের ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী প্রখ্যাত পরিচালক এবং পাপিয়ার জীবনসঙ্গী রাজা সেন আর নেই। সত্তরের কোঠায় পা রাখা এই গুণী নির্মাতা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন রাজা সেন। কোমরের চোটের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। শিরদাঁড়ায় অস্ত্রোপচারের পর ফুসফুসের জটিল সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। টানা ছয় দিন ভেন্টিলেশনে থেকে জীবনের শেষ যুদ্ধটি লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি।
শোকের এই মুহূর্তে পাপিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পুরো টলিপাড়া। নন্দনে পরিচালকের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা সোমরাজ মাইতিসহ একাধিক সহকর্মী। ক্যামেরার সামনে শোকাতুর পাপিয়ার সাথে একাত্ম হতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সোমরাজ। তিনি জানান, একজন অভিভাবক ও মহান নির্মাতাকে হারানোর শূন্যতা অপূরণীয়। তবে পাপিয়ার কাছে এই ক্ষতি কেবল একজন পরিচালকের প্রয়াণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও পরম বন্ধুর চিরবিচ্ছেদ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অশ্রুসিক্ত পাপিয়া জানান, রাজা সেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই ডুবে ছিলেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নির্মাণাধীন তথ্যচিত্রটির কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল, যা অসম্পূর্ণ রেখেই পাড়ি দিলেন তিনি। পাপিয়ার কথায় ফুটে ওঠে এক জীবনব্যাপী সম্পর্কের গভীরতা, যেখানে স্বামী ও বন্ধুর হারানোই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
ব্যক্তিগত এই চরম শোকের আবহে নিজেকে সামলে নিতে এবং পরিবারের পাশে থাকতে পাপিয়া সেন আপাতত ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং থেকে বিরতি নিচ্ছেন। প্রিয় শিল্পীর এই কঠিন সময়ে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁদের ভালোবাসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন প্রিয় ‘ঠাম্মি’কে, প্রার্থনা করছেন যেন শোকাতুর এই অভিনেত্রী এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি পান।
