Advertisement

আমির খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করলেন পূজা বেদি

বলিউডের রুপালি পর্দায় আমির খান ও পূজা বেদির রসায়ন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের অন্ত নেই। নব্বইয়ের দশকের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-এর সেই সোনালি দিনগুলোতে তাঁদের প্রেম নিয়ে কম গুঞ্জন শোনা যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই পুরোনো গুঞ্জনকে স্রেফ হাসিঠাট্টা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা বেদি। বরং রুপালি পর্দার বাইরে আমির খানের ব্যক্তিত্বের এক অমলিন ও সজ্জন দিক সামনে নিয়ে এলেন তিনি।

ঘটনাটি ‘আতঙ্ক হি আতঙ্ক’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়ের। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটির কাছে এক বাংলোয় শুটিং চলছিল সেই সিনেমার। সে সময়ে আজকের মতো ভ্যানিটি ভ্যানের বিলাসিতা ছিল না। এক আবেগঘন ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চিত্রগ্রহণের পর পূজা ও আমিরকে একটি ঘরে অপেক্ষমাণ থাকতে বলা হয়, যেখানে ছিল একটি শয্যা। সেই মুহূর্তে তরুণী পূজার মনে শঙ্কা দানা বেঁধেছিল, বলিউডের অলিগলি থেকে শোনা নানা গুঞ্জন তখন তাঁকে অস্থির করে তুলছিল। বদ্ধ ঘরে দুজনে একা বসে থাকার সেই পরিস্থিতিতে অস্বস্তি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আমির খান পরিস্থিতি হালকা করে দিতে এক অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘দাবা খেলবে?’

বিজ্ঞাপন

পূজা জানান, সেই মুহূর্তে আমিরের সহজ-সরল প্রশ্নটি তাঁর সমস্ত জড়তা ও দুশ্চিন্তা নিমেষেই দূর করে দিয়েছিল। দুজন মিলে দাবা খেলায় মেতে উঠেছিলেন, যা সেই টানটান মুহূর্তটিকে নিছক বন্ধুত্বপূর্ণ বিনোদনে রূপান্তর করে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন অনেক সহকর্মীর ভিড়ে আমিরকে তিনি সব সময় একজন অত্যন্ত ভদ্র এবং মার্জিত মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের প্রয়োজনে ক্যামেরার সামনে তারা পেশাদার হলেও ক্যামেরা বন্ধের পর সহকর্মীর প্রতি আমিরের এমন শ্রদ্ধা ও অমায়িক আচরণ আজও পূজার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

১৯৯২ সালে মনসুর খান পরিচালিত ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ চলচ্চিত্রটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে। পূজা বেদি ও আমির খানের সেই রসায়ন আজও দর্শকদের কাছে নস্টালজিয়ার আবেশ ছড়ায়। বর্তমানে পূজা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘মাসাবা মাসাবা’-তে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। অন্যদিকে আমির খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী সিনেমা ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ নিয়ে এখন সিনেপ্রেমীদের নজর। পর্দার বাইরের সেই দাবার বোর্ডের গল্পটি যেন বারবার প্রমাণ করে, গ্ল্যামারের চাকচিক্যের চেয়েও শিল্পীর মানবিক গুণাবলিই দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%