আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির রসায়নে চরকিতে আসছে রঙিন সুরমা

বয়সের পড়ন্ত বিকেলে একাকিত্ব আর অসুস্থতার ঘেরাটোপে যখন জীবনের চাহিদাগুলো ফ্যাকাশে হয়ে আসে, তখন বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নিতে হয় অন্যভাবে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা মুন্তাসির ও শাহিদা নামের দুই মানুষের অস্তিত্বের টানাপোড়েন, ভয় আর একে অপরকে আঁকড়ে ধরার গল্প নিয়ে নির্মাতা রিয়াজুল হক হাজির হচ্ছেন তাঁর নতুন চরকি ফ্লিক ‘রঙিন সুরমা’ নিয়ে। প্রতীক্ষিত এই কাজটি আজ রাত ১২টায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে।
গল্পের প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে সত্য ও মিথ্যার বৈপরীত্যকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার নিজস্ব দর্শন অনুযায়ী, সত্য যেখানে ধূসর ও স্থির, সেখানে মিথ্যার আছে অসংখ্য বর্ণিল রূপ। মুন্তাসির ও শাহিদার ধূসর বাস্তবতায় সম্পর্কের অনেক না পাওয়া ও ভয়ের বিপরীতে তাঁরা নিজেদের জন্য গড়ে তোলেন এক রঙিন মায়ার জগৎ। নির্মাতা রিয়াজুল হক ব্যাখ্যা করেন, সব সত্য মানুষকে বাঁচার রসদ দেয় না; বরং জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে কখনো কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াটাও জরুরি হয়ে পড়ে। জীবনের চোখে এঁকে নেওয়া সেই রংটুকুই আসলে ‘রঙিন সুরমা’।
এই মানবিক গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন এবং গুণী অভিনেত্রী আফসানা মিমি। চিত্রনাট্য পড়ার পরেই দারুণভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, নামটির মধ্যেই এক অদ্ভুত জাদু ছিল। চিত্রনাট্যটি পড়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পর্দায় দীর্ঘদিনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে মিমি অভিহিত করেছেন সৌভাগ্য হিসেবে। শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, আফজাল হোসেনের সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব ও কাজের প্রতি নিবেদন পুরো প্রক্রিয়াটিকে আনন্দদায়ক করে তুলেছিল।
আফজাল হোসেনের কাছে এই গল্পের প্রধান শক্তি হলো এর শান্ত ও গভীর আবেগ। বর্তমান সময়ের চাঞ্চল্যকর গল্পের ভিড়ে ‘রঙিন সুরমা’র মতো ধীরস্থির ও স্নিগ্ধ অনুভূতির গল্পটি তাকে ভীষণভাবে টানে। তিনি মনে করেন, এই আবেগ সহজেই স্পর্শ করবে দর্শকদের হৃদয়ের গহিন কোণ।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনির মতে, বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে এমন আবেগঘন কাজের ধারা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বয়সভেদে সব শ্রেণির দর্শকই এই গল্পের সঙ্গে নিজেদের জীবনের যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। জীবনের যে অংশটিকে মানুষ সচরাচর এড়িয়ে যেতে চায়, ‘রঙিন সুরমা’ সেই পরিচিত অথচ অব্যক্ত জীবনের গভীরে থাকা বেঁচে থাকার লড়াইকে অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে।
