মৌসুমী ওমর সানীর জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনার তিন দশক পূর্ণ

নব্বইয়ের দশকের ঢাকার রাজপথ দেখেছিল এক রূপকথার মতো বিয়ের দৃশ্য। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বর সেজে যাচ্ছেন প্রিয়তমা কনের কাছে, আর পেছনে শোভা পাচ্ছে ১১৭টি গাড়ির এক বিশাল বহর! সেই রাজকীয় কনভয়ের জেরে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে শাহবাগের শেরাটন হোটেল পর্যন্ত থমকে গিয়েছিল পুরো নগরী। ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিরসবুজ দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর সেই বিবাহোত্তর সংবর্ধনার তিন দশক পূর্তিতে আজও স্মৃতির পাতায় রোমন্থন হয় সেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের কথা।
ঢাকাই সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই জুটির প্রেমের গল্পটা অবশ্য রূপালি পর্দার মতোই নাটকীয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত মৌসুমীর সঙ্গে ওমর সানীর প্রথম পরিচয় ঘটে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামের হাত ধরে। শুরুতে সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে ‘দোলা’ ছবির শুটিংয়ে সিলেটের মনোরম লোকেশনে শুরু হয় তাঁদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। শুটিং স্পটের মনোমালিন্য ছাপিয়ে মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব আর অমায়িক আচরণে মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন ওমর সানী। জৈন্তাপুরের এক শুটিংয়ে মায়ের দেওয়া সোনার চেইনটি উপহার দিয়ে মৌসুমীর মনের দুয়ারে কড়া নেড়েছিলেন সানী। এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে সেই প্রেম পৌঁছে গিয়েছিল বাস্তব জীবনে।
১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ পারিবারিকভাবে দুই পরিবারের একান্ত সান্নিধ্যে গোপনে গাঁটছড়া বাঁধেন তাঁরা। কিন্তু অভিনয় ক্যারিয়ারের কথা ভেবে খবরটি তখন গোপন রাখতে চেয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। তবে সময়ের পরিক্রমায় সন্তানের আগমনের খবরে সেই গোপনীয়তা আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঘোষণা দেন তাঁরা।
১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ছিল টক অব দ্য টাউন। স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছেপূরণ করতে সেবার ঘোড়ার গাড়িতে চড়েই শেরাটন হোটেলের মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন ওমর সানী। বাপ্পারাজ ও অমিত হাসানসহ বিনোদন অঙ্গনের কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে মহাখালী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সেই দীর্ঘ গাড়ির সারি আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসের পাতায় এক অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে। প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও মৌসুমী-ওমর সানী একে অপরের হাত ধরে অটুট রয়েছেন, যা তাঁদের ভক্তদের কাছে এক অনন্য ভালোবাসার দৃষ্টান্ত।
