এনইইটি দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়ে ট্রোলিংয়ের শিকার শিরিন পাল, কড়া জবাবে নজির গড়লেন অভিনেত্রী

নিট দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে উত্তাল পুরো দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতার রাজপথেও। শিক্ষার্থীদের এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত প্রতিবাদী মিছিলে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিরিন পাল। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের ‘অপর্ণা’ চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকহৃদয় জয় করা এই অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কবি প্রলয় সরকারের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে শিরিন তাঁর পোস্টে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় লেখেন, জলকামান ও লাঠিচার্জের মুখেও যারা নিজের অধিকারের জন্য অটল, ইতিহাস তাদেরই মনে রাখবে। অধিকার ভিক্ষার বিষয় নয় বরং তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো সাহসিকতার বিষয়—এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অভিনেত্রীর এই নির্ভীক বার্তার বিপরীতে নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘লিবারা*ন্ডু’ তকমা দিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর পেশাগত পরিচয় নিয়েও কটাক্ষ করা হয়।

তবে ট্রোলিং আর বিদ্বেষী মন্তব্যের কাছে মাথানত করার পাত্রী নন শিরিন। একজন নেটিজেন যখন তাঁকে সিরিয়াল করে সেলিব্রিটি হওয়ার খোঁচা দেন, তখন শিরিন অত্যন্ত শান্ত অথচ ধারালো ভাষায় পাল্টা জবাব দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সেলিব্রিটি হওয়ার আগে একজন শক্ত শিরদাঁড়াওয়ালা মানুষ হওয়ার সাধনাই তিনি করে যাচ্ছেন। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তেজদীপ্ত উত্তর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

শিরিনের এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষসহ বহু গুণগ্রাহী। আইটি সেলের আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন, তা টলিপাড়ার তরুণ শিল্পীদের নতুন এক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জি কর থেকে শুরু করে দিল্লির ছাত্র আন্দোলন—বর্তমান সময়ের তরুণ শিল্পীরা যে কোনো ধরনের ট্রোলিংকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থের পক্ষে সোচ্চার হতে পিছপা হচ্ছেন না, শিরিন পালের এই প্রতিক্রিয়া তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকল।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%