বিশ্বকাপ জয় নিয়ে পরীর বিয়ের ঘোষণা ঘিরে সরগরম শোবিজ পাড়া

বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে এক মধুর ফাঁদে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলে আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন—এমন একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে সরগরম শোবিজ অঙ্গন। নায়িকার এই রসবোধপূর্ণ ঘোষণা যে এতটা গুরুত্ব পাবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি।
রোববার দুপুরে আলাপকালে হাসিমুখেই পরীমনি জানালেন নিজের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কথা। তিনি বলেন, এর আগে কখনোই ঘোষণা দিয়ে বিয়ের আয়োজন করেননি তিনি। প্রেম করেছেন এবং হুট করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এবারের ঘোষণায় রীতিমতো মুসিবতে পড়েছেন এই তারকা। ভক্তদের কাছ থেকে আসা অসংখ্য সিরিয়াস বিয়ের প্রস্তাব দেখে তিনি নিজেই এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
বিয়ের বিষয়ে আলাপ করতে গিয়ে অভিনেত্রী একটি বড় বাস্তবিক বাধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি হাস্যচ্ছলে বলেন, বিয়ের জন্য অভিভাবকত্বের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে অভিভাবক হিসেবে কাউকে না পাওয়ায় বিয়ের সিদ্ধান্তটি এখন আর সহজ নয়। বরং তিনি এখন ছেলের বড় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তার ইচ্ছা, ছেলে বড় হলে অথবা তার মাধ্যমেই যদি নতুন কোনো পথ তৈরি হয়, তবেই বিয়ের কথা ভাবা যেতে পারে। অর্থাৎ, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলেও যে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের সানাই বাজছে না, সেই ইঙ্গিত স্পষ্টভাবেই দিয়ে রাখলেন তিনি।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার মহারণ দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। আকাশী-সাদা শিবিরের অন্ধ ভক্ত পরীমনি অবশ্য মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধ। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সব লড়াই শেষে সোনালী ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির হাতেই উঠবে। মেসির হাতে বিশ্বকাপ এবং তার গোল্ডেন বুট জয়—এটাই এখন পরীমনির একমাত্র চাওয়া।
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থনে পরীমনির সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি জয় উদ্যাপন করেছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়, পরেছেন প্রিয় দলের জার্সি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন আবেগ। সেমিফাইনালের আগে দেওয়া সেই ভাইরাল পোস্ট এখন ভক্তদের মধ্যে এক ভিন্ন মাত্রার কৌতূহল তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কী করবেন ঢালিউডের এই গ্ল্যামারাস ডিভা? তবে যাই ঘটুক, পরীমনির এই খুনসুটি যে ফুটবল উন্মাদনায় নতুন রঙ ছড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।