বেবিবাম্পে জগন্নাথের ছবি এঁকে নেটিজেনদের তোপের মুখে কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বপ্না

রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে ভক্তির আতিশয্য আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষাক্ত ট্রোলিং যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরখানেক আগের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কলকাতার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মেকআপ আর্টিস্ট স্বপ্না। নিজের বেবিবাম্পে নিখুঁত তুলির আঁচড়ে জগন্নাথ দেবের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন তিনি। কিন্তু এই সৃজনশীলতা যে এমন তীব্র নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ভাবেননি এই শিল্পী।
গত বছর রথযাত্রার সময় একই ধরণের শিল্পকর্মের জন্য হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায় নামের আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সে সময় নিজের সন্তান হারানোর মতো চূড়ান্ত ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছিলেন তিনি। অমানবিক নেটিজেনদের একাংশ সেই শোকের সময়ও সোহিনীকে জগন্নাথ দেবকে ‘অপমান’ করার দায়ে অভিযুক্ত করে অভিশাপ দিতে ছাড়েনি। সেই বিষাক্ত স্মৃতি যেন ফের জীবন্ত হয়ে উঠেছে স্বপ্নার শেয়ার করা ভিডিওর নিচে করা মন্তব্যগুলোতে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভিউজ পাওয়ার নেশায় ঈশ্বরকে অবমাননা করা হচ্ছে বলে দাবি তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার পরোক্ষ হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ঈশ্বর নিয়ে খেলা করা মোটেও উচিত নয় এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি স্বপ্না ও তাঁর অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনার আড়ালেও কার্যত ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন সমালোচকরা।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেকেই স্বপ্নার এই শৈল্পিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রতিবাদীদের দাবি, ঈশ্বর যদি মানুষের মধ্যেই বাস করেন, তবে তাঁকে নিজের শরীরে ধারণ করা অপরাধ হতে পারে না। বরং এক মা ও তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক অভিশাপ এবং ঘৃণা ছড়ানোর মানসিকতাকেই ধিক্কার জানিয়েছেন সচেতন নেটিজেনরা।
গোটা পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে এক স্বস্তির খবর। স্বপ্না ইতিমধ্যেই পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। মূলত গর্ভাবস্থায় ধারণ করা সেই ভিডিওটি রথযাত্রার উপলক্ষেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। বিতর্ক নিয়ে মেকআপ আর্টিস্ট স্বপ্না নিজে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, ভার্চুয়াল দুনিয়ার এই অহেতুক তিক্ততা ও অন্ধ বিশ্বাসের বাড়াবাড়ি ফের একবার শিল্পী ও সাধারণ মানুষের বাক-স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।