নেটফ্লিক্সের নতুন মৌসুমে ঘুরে দাঁড়াল অ্যাভাটার দ্য লাস্ট এয়ারবেন্ডার

ফ্যান্টাসি অ্যানিমেশনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ‘অ্যাভাটার: দ্য লাস্ট এয়ারবেন্ডার’। ২০০৫ সালে নিকেলোডিয়নে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে সিরিজটি। সেই কালজয়ী গল্পের ওপর ভিত্তি করে নেটফ্লিক্স যখন লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দেয়, তখন প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। তবে প্রথম সিজনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পর দ্বিতীয় মৌসুম নিয়ে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় ছিল। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ জুন মুক্তি পাওয়ার পরপরই সিরিজটি যেন এক ঝড়ে বিশ্বজয় করেছে। মুক্তির প্রথম চার দিনেই ৮০ লাখ ৭০ হাজার ভিউ নিয়ে নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টপ টেন তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে এটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ভক্তরা এখন বুঁদ হয়ে আছেন আং, কাটারা এবং সোকার সেই জাদুকরী পৃথিবীতে।
দ্বিতীয় মৌসুমে গল্পের প্রেক্ষাপট বিস্তৃত হয়েছে বহুগুণ। আং তার চার উপাদানের শক্তির মধ্যে মাটি ও আগুনের ওপর আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। তার সঙ্গী হয় কাটারা ও সোকা। এই যাত্রাপথেই দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে দুর্দান্ত প্রতিভাবান আর্থবেন্ডার টফ বেইফংয়ের। তাদের গন্তব্য এখন রহস্যে ঘেরা আর্থ কিংডমের রাজধানী ‘বা সিং সে’। আপাতদৃষ্টিতে শান্ত এই নগরীর অন্দরে যে ক্ষমতার রাজনীতি, দুর্নীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার খেলা চলছে, তা আংয়ের জন্য এক নতুন অগ্নিপরীক্ষা। অন্যদিকে ধূমকেতু ‘সোজিনস কমেট’-এর আগমনী বার্তা ফায়ারবেন্ডারদের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে, যা পুরো বিশ্বের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অভিনয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় সিজনটি প্রথমটির তুলনায় অভাবনীয় উন্নতি করেছে। প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করা গর্ডন করমিয়ার, কিয়াওয়েন্তিও এবং ইয়ান ওসলি নিজেদের চরিত্রে অনেক বেশি সাবলীল এবং পরিণত। তবে এই মৌসুমের প্রাণ নিঃসন্দেহে জুকো চরিত্রে ডালাস লিউ। নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের সংকট কাটিয়ে ওঠার সেই কঠিন পথপরিক্রমা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণ দক্ষতায়। আর পল সান-হিউং লি অভিনীত আইরোহ ও জুকোর মধ্যকার রসায়ন দর্শকদের আবেগপ্রবণ করতে বাধ্য। পাশাপাশি টফ বেইফং চরিত্রে মিয়া চেকের আত্মবিশ্বাসী ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই সিজনের অন্যতম সেরা চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রযোজনার কারিগরিতেও নেটফ্লিক্স এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। বিশেষ করে বা সিং সে শহরের সেট ডিজাইন, কস্টিউম এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। লড়াইয়ের দৃশ্যগুলোতে বেন্ডিংয়ের স্বাভাবিক প্রয়োগ এবং গতিময়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ভিএফএক্সের কৃত্রিমতা নজরে আসে, তবে গল্পের গাঁথুনি সেই সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই ঢেকে দিয়েছে। অ্যানিমেটেড সিরিজের হুবহু অনুকরণ না করে নির্মাতারা এবার নিজের মতো করে গল্প বলায় মনোযোগ দিয়েছেন, যা সিরিজটিকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
তবে গল্পের বিশাল ক্যানভাস সামাল দিতে গিয়ে মাঝে মাঝে তাড়াহুড়ো চোখে পড়ার মতো। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের গভীরতা আরও ফুটে ওঠার সুযোগ ছিল যদি পর্ব সংখ্যা কিছুটা বেশি হতো। তা সত্ত্বেও শক্তিশালী চিত্রনাট্য, চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি আর চরিত্রগুলোর নতুন করে বিকশিত হওয়ার সাহস ‘অ্যাভাটার: দ্য লাস্ট এয়ারবেন্ডার’–এর দ্বিতীয় সিজনকে সফলতার এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন কেবল তৃতীয় ও শেষ কিস্তির অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ভক্ত, যেখানে নিশ্চিতভাবেই সব প্রশ্নের উত্তর আর চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রতীক্ষায় তারা।
