মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলে মুখ খুললেন মাহিয়া মাহি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে স্বামী ও সন্তানের সান্নিধ্যে থাকলেও, সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তার কারণে আবারও বিনোদন অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরে মাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও সাহসী বার্তা দিয়েছেন। তিনি নিজেকে কেবল একজন নায়িকা হিসেবে নয়, বরং একজন মা হিসেবে দাবি করে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিডিওতে মাহি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অতীতে ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপ নিয়ে তাঁকে নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মাহির দাবি, অডিওতে মুরাদ হাসানের কথা থেকেই স্পষ্ট যে মাহি তাঁকে এড়িয়ে চলতেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে ব্লক করে দিয়েছিলেন। মাহি বলেন, তাঁর ফোন না পাওয়ার কারণেই মুরাদ অন্য কারো ফোন ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। শুধু তাই নয়, অডিওতে মুরাদ হাসানের র্যাব, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা পাঠানোর হুমকিই প্রমাণ করে যে, তাদের মধ্যে কোনো সুসম্পর্ক ছিল না; বরং মাহির ভাষ্যমতে, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বশ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তৎকালীন এই প্রভাবশালী নেতা।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে মাহি জানান, সে সময় তিনি চরম অসহায় বোধ করেছিলেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক প্রভাবশালী সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সাহায্য চেয়েও তিনি কোনো আশানুরূপ সাড়া পাননি। উল্টো অনেক সহকর্মী রাতের বেলায় মুরাদ হাসানের উপস্থিতিতে তাঁকে ফোন ধরানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন এবং পরে সতর্ক করে দিতেন যেন রাত ১১টার পর কোনো অপরিচিত কল রিসিভ না করা হয়। মাহি আক্ষেপ করে বলেন, তিনি যখন এসব হয়রানির কথা সহকর্মীদের জানাতেন, তখন তাঁরা কেবল অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে দায় এড়াতেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে মাহি দাবি করেন, তিনি যদি সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই এই দুর্ব্যবহারের বিচার পেতেন। সেই সময়ে পরিস্থিতির চাপে পড়ে অনেক সময় মুরাদ হাসানের অশোভন আচরণের বিপরীতেও তাঁকে নিরুপায় হয়ে হাসিমুখে কথা বলতে হয়েছে। মাহি ব্যাখ্যা করেন যে, তখন যদি তিনি কোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতেন বা পাল্টা গালিগালাজ করতেন, তবে তাঁর জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নিত?
ভিডিও বার্তার উপসংহারে মাহি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, শুধু তিনি নন, মিডিয়া জগতের আরও অনেক নারী—যাদের মধ্যে চলচ্চিত্র তারকা, সংবাদ উপস্থাপিকা এবং সংগীতশিল্পীরাও রয়েছেন—তাঁরাও মুরাদ হাসানের এই অশালীন ও হীন আচরণের শিকার হয়েছেন। পর্দার বাইরের এই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মাহির এই সাহসী উচ্চারণ ঢালিউড পাড়ায় নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।