চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবের সাজা বহাল ও মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করল দিল্লি হাইকোর্ট

বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদবের আইনি জটিলতা যেন কোনোভাবেই কাটছে না। চেক বাউন্স সংক্রান্ত এক দীর্ঘস্থায়ী মামলায় অভিনেতার ওপর শাস্তির খাঁড়া আরও জোরালো হলো। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলায় অভিনেতার সাজা বহাল রাখার পাশাপাশি তাঁর ওপর আরোপ করেছে বিপুল অঙ্কের জরিমানা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজপাল যাদবের আচরণ অসংগত ও সন্দেহজনক। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হলে অভিনেতাকে ফের ছয় মাসের কারাবাসের মুখোমুখি হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সাতটি পৃথক মামলার প্রতিটিতে আদালত তাঁকে এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা করে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিনেতার স্ত্রীকেও প্রতিটি মামলায় পাঁচ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালত অভিনেতার মূল কারাদণ্ড ছয় মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে এনেছিল, তবে শর্ত ভঙ্গের দায়ে সেই সাজা আবারও ছয় মাসে উন্নীত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট প্রায় দেড় দশকের পুরোনো। ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত একটি ছবির প্রযোজনার জন্য রাজপাল এক প্রযোজনা সংস্থার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ায় সেই ঋণ শোধ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই শর্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হন অভিনেতা।

২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়, যে রায় পরবর্তী বছরগুলোতে সেশন কোর্ট এবং হাইকোর্টেও বজায় থাকে। মাঝপথে কিছু সময়ের জন্য সাজা স্থগিত করা হলেও প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যদিও রাজপাল আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের আর্থিক অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু বিচার ব্যবস্থা তাঁর আবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বর্তমানে আইনি বেড়াজালে আটকা পড়ে বলিউডের এই জনপ্রিয় হাসিখুশি অভিনেতার সময়টা যে বেশ কঠিন যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%