দীর্ঘ বিরতির পর চরকি কার্নিভালে আড্ডায় মেতে উঠলেন শরীফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল

ঢালিউড পাড়ার চিরচেনা বন্ধুত্ব যেন সময়ের আবর্তে আরও প্রগাঢ় হয়েছে। কর্মব্যস্ততার ভিড়ে দীর্ঘ দিন একে অন্যের থেকে দূরে থাকলেও, শুক্রবার রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ‘চরকি কার্নিভ্যাল’ যেন রূপ নিল দুই তারকার পুনর্মিলনীতে। অনেক দিন পর অভিনেতা শরীফুল রাজ ও অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের মুখোমুখি হওয়া এবং প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠা ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
পর্দায় ‘ন ডরাই’ খ্যাত এই দুই তারকা বাস্তব জীবনে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের বন্ধু। অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রাখার অনেক আগে মডেলিংয়ের সময় থেকেই তাদের জানাশোনা। দীর্ঘদিনের সেই হৃদ্যতা এখনো অমলিন। শুটিংয়ের শিডিউল আর ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততায় তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ কম হলেও, শুক্রবারের সেই ক্ষণটুকু ছিল একান্তই বন্ধুত্বের। ক্যামেরার লেন্স যখন তাদের আড্ডার মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করতে চায়, তখন সুনেরাহ শুরুতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করলেও রাজের সাবলীল ভঙ্গিমা ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রশ্রয় মুহূর্তেই পরিস্থিতি সহজ করে দেয়। রাজ বেশ দৃঢ়ভাবেই বলেন, বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, ছবি তো তুলতেই হয়।
আড্ডার ফাঁকে শরীফুল রাজ স্মৃতিচারণ করেন তাদের শুরুর দিনগুলোর কথা। তিনি জানান, শোবিজের পথচলায় সুনেরাহ বরাবরই তার বড় একজন সাপোর্টার। কর্মজীবনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যস্ততায় তারা নিজ নিজ অবস্থানে সফল হলেও, একে অন্যের কাজের মূল্যায়ন ঠিকই করেন। ক্যারিয়ারের নতুন নতুন সাফল্যের গল্পে নিজেদের আপডেট শেয়ার করার সময়ও দুজনের চোখেমুখে ছিল অমলিন হাসির ছটা।
সুনেরাহ অবশ্য তাদের নিয়ে নানা মহলে হওয়া চর্চা আর গুজবের বিষয়ে কিছুটা সচেতন। তিনি জানান, বন্ধুত্বের এই পবিত্র জায়গাটি নিয়ে অহেতুক আলোচনার চেয়ে একে অন্যের পাশে থাকাটাই তার কাছে মূখ্য। তবে হাসিমুখেই রাজের কথার সুর মিলিয়ে সুনেরাহ জানান, তাদের বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ্যে আসতে কোনো বাধা নেই। রাজের দাবি, পেশাগত জীবনের উত্থান-পতনের মাঝেও তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেন সব সময় অটুট থাকে, সেই প্রত্যাশা তারা দুজনই করেন।
২০১৯ সালে তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘ন ডরাই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছিল দর্শক। সেই মুগ্ধতা আজও তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের শক্তিতে বলীয়ান। দীর্ঘ সময় পর দুই বন্ধুর এই প্রাণখোলা আলাপচারিতা প্রমাণ করল, গ্ল্যামার দুনিয়ার জৌলুসের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হয় একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা আর অটুট বন্ধুত্ব।