টাইগার শ্রফের ওপর হামলার আসামিরা গ্রেফতার হলেও বলিউডের আতঙ্ক কাটেনি বললেন রাম গোপাল বর্মা

বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও মূলচক্রী ধরা না পড়ায় আতঙ্ক কাটছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত পরিচালক রাম গোপাল বর্মা

বলিউড পাড়ায় চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোশাল মিডিয়ায় নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রাম গোপাল বর্মা। ১৮ অক্টোবর শুক্রবার রাতে মুম্বইয়ে জনপ্রিয় তারকা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানোর ঘটনার নেপথ্য রহস্য নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই পরিচালক। এই ঘটনায় মুম্বই পুলিশ তিন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ পদক্ষেপ নিলেও, তা নিয়ে স্বস্তিতে নেই বলিপাড়ার তারকারা। পরিচালক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মূলচক্রীরা ধরা না পড়া পর্যন্ত বলিউডের আকাশে আতঙ্কের মেঘ কাটছে না।

ঘটনার দিন ফুটবল খেলে ফেরার পথে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। বরাতজোরে জনপ্রিয় এই তারকা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে টাইগার নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে ১৯ অক্টোবর শনিবার রাজস্থান থেকে তিন সন্দেহভাজন বন্দুকবাজকে গ্রেফতার করে মুম্বইয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানালেও, অপরাধজগতের অন্ধকার গহ্বর সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা বাণী শুনিয়েছেন রাম গোপাল বর্মা।

নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ও বিশ্লেষণাত্মক পোস্টে রাম গোপাল বর্মা অপরাধজগতের ভেতরের কাঠামোর এক রোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সরাসরি ট্রিগার টেপা বন্দুকবাজরা অপরাধ চক্রের সবচেয়ে অবহেলিত ও কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি বাড়ি নির্মাণে শ্রমিকদের অবদানের সাথে তুলনা করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শ্রমিকরা যেমন বাড়ির নকশা করেন না বা মালিক হন না, বন্দুকবাজদের অবস্থাও ঠিক তেমনই। মূলত মূল পরিকল্পনাকারীরা পর্দার আড়ালে থেকে ছক কষেন, আর সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে ভাড়াটে সৈনিকেরা।

সেনাবাহিনী এবং অপরাধজগতের ক্ষমতার কাঠামোর তুলনা টেনে পরিচালক আরও স্পষ্ট করেছেন যে, নির্দেশদাতা এবং নির্দেশ পালনকারীদের দূরত্বই অপরাধচক্রের মূল শক্তি। অপরাধ চক্রের প্রধানরা নিজেদের জীবন নিরাপদ রাখতে সবসময় অন্যদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করিয়ে নেন। ফলে কেবল কিছু ভাড়াটে বন্দুকবাজ ধরা পড়লেই যে অপরাধ সাম্রাজ্যের শেকড় নড়ে যাবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। রাম গোপাল বর্মার এই জোরালো যুক্তি এবং বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, মুম্বই পুলিশের সাম্প্রতিক গ্রেফতারি বড় সাফল্য হলেও, বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

০%
০%
০%
০%