১৬ বছর আগের গভীর বিশ্বাসঘাতকতা ও একাকীত্ব নিয়ে মুখ খুললেন হর্ষদ চোপড়া

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির রূপবান ও জনপ্রিয় অভিনেতা হর্ষদ চোপড়া দীর্ঘ দুই দশক ধরে পর্দায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে এলেও, পর্দার বাইরের মানুষটিকে নিয়ে বরাবরই রহস্যের ঘনঘটা ছিল। ৪৩ বছর বয়সী এই এলিজিবল ব্যাচেলর কেন চিরকাল ব্যক্তিগত জীবনকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখেছেন, তা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’-এর মঞ্চে এসে সেই রহস্যের জট খুললেন হর্ষদ। দীর্ঘ ১৬ বছর হৃদয়ের গহীনে চেপে রাখা এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এই তারকা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফারহা খান ও রিতেশ দেশমুখ যখন হর্ষদের ব্যক্তিগত নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন অভিনেতা ফিরে যান ২০১০ সালের সেই অভিশপ্ত সময়ে। হর্ষদ অকপটে স্বীকার করেন, সেই বছর তিনি একই সঙ্গে হারিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় বন্ধু এবং ভালোবাসার মানুষটিকে। তাঁর প্রেমিকা তাঁরই সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণা করায় মানুষের ওপর থেকে চিরতরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই মানসিক আঘাতই তাকে আজকের এই অন্তর্মুখী একাকীত্বের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে জানান অভিনেতা।

সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা যখন তাঁকে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তখন হর্ষদ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, সম্পর্কের সঠিক মানুষ জীবনে শক্তি জোগালেও, তা সবসময় এক বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ স্বার্থপর এবং তাদের আচরণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকে। সম্পর্কের ভেতরে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মানসিকভাবে বধির’ মনে হওয়ার যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করে তিনি জানান, তাঁর কথাগুলো যেন একসময় কোনো গন্তব্যে পৌঁছাত না। তিনি নিজেকে অহেতুক সহজলভ্য করে ফেলেছিলেন বলেই হয়তো বারবার আঘাত পেয়েছেন।

হর্ষদের এই মর্মস্পর্শী স্বীকারোক্তি সামনে আসতেই বিনোদন মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শো-এর সেটে তাঁকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় সহ-অভিনেত্রী শিবাঙ্গি জোশীকে। এদিকে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, হর্ষদের সেই প্রাক্তনের নাম স্মৃতি ঝা এবং বিশ্বাসঘাতক বন্ধুটি হলেন কুণাল করণ কাপুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্য চাউর হতেই পুরনো সেই ত্রিভুজ প্রেমের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হর্ষদের এই দীর্ঘদিনের চাপা কষ্ট শুনে অনুরাগীরা স্তব্ধ। অতীতে যা ঘটে গেছে তা ছাপিয়ে অভিনেতা যেন জীবনে নতুন করে সুখ খুঁজে পান, সেই প্রার্থনাই করছেন তাঁর অগণিত ভক্ত। রূপালি পর্দার পেছনের এই বিষাদময় গল্প যে হর্ষদকে ভেতর থেকে কতটা ভেঙে দিয়েছিল, তা তাঁর প্রতিটি শব্দে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

0%
0%
0%
0%