বলিউডের সোনালি যুগের স্মৃতিচারণায় বিন্দুর পেশাদারিত্ব ও মানবিক সম্পর্কের গল্প

বলিউডের সোনালি যুগের পর্দার পেছনের গল্প মানেই যেন একরাশ নস্টালজিয়া আর সম্মানের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই রূপালি সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কিংবদন্তি অভিনেত্রী বিন্দু তুলে ধরেন এমন কিছু মুহূর্ত, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে রূপকথার মতো মনে হতে পারে। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় পেশাদারিত্ব আর ব্যক্তিগত মর্যাদার ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি কতটা আপসহীন ছিলেন, তা ফুটে উঠেছে তাঁর বর্ণনায়।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৩ সালে যশ চোপড়া পরিচালিত ‘জোশিলা’ ছবির সেটে ঘটেছিল এমনই এক ঘটনা। সেটে পৌঁছে বিন্দু হঠাৎ জানতে পারেন যে, তাঁকে একটি বিকিনি পরে দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তাঁকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ আপত্তি জানান অভিনেত্রী। যশ চোপড়ার মতো কিংবদন্তি পরিচালকের সেটে কাজ করা সত্ত্বেও নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে তিনি আপস করতে রাজি হননি। সেটে কাজ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকলেও যশ চোপড়া বা দেব আনন্দ কেউই তাঁর ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি। বরং পরিচালকের বিচক্ষণতায় দৃশ্যটি এমনভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল, যাতে বিন্দু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সেদিনের সেই পেশাদারিত্ব আর একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আজকের দিনেও অনুপ্রেরণার উৎস।

বিন্দুর স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে এসেছে আরও এক মজার অভিজ্ঞতা, যা শুনলে চমকে যেতে হয়। একদিন সকালে সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে একটি রোমান্টিক গানে মজেছিলেন বিন্দু। দুপুরে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে তাঁদের দুজনকে ছুটতে হয় ‘অর্জুন পণ্ডিত’ ছবির সেটে। সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—বিন্দু অভিনয় করছিলেন অশোক কুমারের স্ত্রীর চরিত্রে, যার অর্থ পর্দায় সঞ্জীব কুমারকে তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করতে হবে।

সকাল পর্যন্ত যে অভিনেত্রীর প্রেমে মজেছিলেন, বিকেলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকার সময় সঞ্জীব কুমার রীতিমতো বিপাকে পড়ে যান। সংলাপ উচ্চারণ করতে গিয়ে বারবার হেসে ফেলছিলেন তিনি। পরিচালক হৃষিকেশ মুখার্জিকে ঠাট্টা করে সঞ্জীব কুমার বলেছিলেন, সকাল সাতটা থেকে দুপুর পর্যন্ত যাকে প্রেম নিবেদন করেছি, তাকে হুট করে ‘মা’ বলাটা অসম্ভব! পুরো সেটে তখন হাসির রোল পড়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিন্দুর এই স্মৃতিচারণা কেবল ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং এটি তৎকালীন বলিউডের এক সুশৃঙ্খল এবং মানবিক কর্মসংস্কৃতির দলিল। যেখানে আজকের দিনের মতো আনুষ্ঠানিকতা বা ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কড়াকড়ি ছিল না, কিন্তু ছিল একে অপরের শিল্পীসত্তা ও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। যশ চোপড়া, দেব আনন্দ কিংবা হৃষিকেশ মুখার্জির মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাজ করার সেই দিনগুলো আজও বিনোদন দুনিয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

0%
0%
0%
0%