বাংলা বিনোদন জগতের উজ্জ্বল মুখ অভিনেত্রী অনুশ্রী দাসের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি এক একান্ত আলাপচারিতায় নিজের জীবনের গোপন অধ্যায় ও অনাড়ম্বর অনুভূতির কথা অকপটে প্রকাশ করলেন তিনি। অভিনেত্রী স্পষ্ট করলেন, জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত কল তাঁর জীবনের ‘প্রথম অধ্যায়’ নন। বরং সময়ের সরণি বেয়ে পেছনে ফিরে তাকালে খুঁজে পাওয়া যায় অন্য এক নাম, যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের অমিমাংসিত স্মৃতি ও একতরফা ভালো লাগা।
এনটি ওয়ান স্টুডিওতে ‘উজান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকেই অভিনেতা শিলাদিত্য পত্রনবিশের সঙ্গে অনুশ্রীর সখ্য গড়ে ওঠে। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, ১৯ বছর আগে পরলোকগমন করা শিলাদিত্য ছিলেন তাঁর জীবনের এক বিশেষ মানুষ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে যখন কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অনুশ্রী, তখন শিলাদিত্যই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। সেই ভরসা থেকেই অভিনেতা শিলাদিত্যর প্রতি এক গভীর অনুরাগের জন্ম হয়েছিল তাঁর মনে।
অনুশ্রী জানতে পারেন যে শিলাদিত্য বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। এই সত্য জানার পর নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটাননি তিনি। বিয়ের কথা কোনোদিন কল্পনাতেও আসেনি তাঁর। বরং ইন্ডাস্ট্রির নানা চড়াই-উতরাইয়ে শিলাদিত্যর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে ওঠেন তিনি। অভিনেতার পারিবারিক টানাপোড়েন বা দাম্পত্য জীবনের নানা গোপন কথা অনুশ্রীর সঙ্গেই নির্দ্বিধায় ভাগ করে নিতেন শিলাদিত্য। এমনকি শিলাদিত্যর স্ত্রীর প্রতি কোনো ক্ষোভও ছিল না অনুশ্রীর, কারণ তিনি মনে করতেন কোনো সম্পর্কের জটিলতার দায় একান্তই সেই ব্যক্তিদের।
এই নীরব অনুরাগের আবহে এক সময় অনুশ্রীর জীবনে প্রবেশ ঘটে সুপুরুষ অভিনেতা ভরত কলের। প্রাক্তন স্বামীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করে অনুশ্রী জানান, ভরত সত্যিই অসম্ভব আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও, সেই দাম্পত্য স্থায়ী হয়নি। সময়ের স্রোতে বিচ্ছেদের তিক্ততায় শেষ হয় তাঁদের পথচলা।
আজ সময়ের হিসেবে শিলাদিত্য বা সেই পুরনো দিনগুলি অনেকটাই ধূসর। ২০০৮ সালে মারাত্মক কিডনির অসুখে আক্রান্ত হয়ে অকালেই জীবনাবসান ঘটে অভিনেতা শিলাদিত্য পত্রনবিশের। স্মৃতি ও বর্তমানের এই দোটানায় অনুশ্রী আজ এক পরিণত মানুষ, যিনি অতীতের পাঠ চুকিয়ে নতুন করে নিজেকে সাজিয়েছেন জীবনের ক্যানভাসে।