Advertisement

দখল ও অবকাঠামোগত সংকটে বগুড়ার প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রীতি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্ব এবং চরম অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাতীয়করণ হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নেওয়ায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ একতলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হলেও দীর্ঘ এক দশকেও নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি দখল করে ইট, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এই দুরবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে এবং একসময়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর বিদ্যাপীঠটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৭২ জনে ঠেকেছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা জানিয়েছেন, ভবন সংকট ও দখলদারিত্বের ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে টিনশেডের ছাপড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক্তন এক মহিলা কাউন্সিলরসহ তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগসাজশে স্কুলের ভূমির একাংশ দখল করে রেখেছেন, যা নতুন ভবন নির্মাণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে মাঠ দখলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণের দায়িত্ব শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের ওপর ন্যস্ত থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%