রাজবাড়ীতে ডিশ ব্যবসায়ী পিয়ারুল হত্যায় অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের

রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকায় মসজিদের সামনে ডিশ ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলামকে (৩৫) অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ। সদর থানায় দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত পিয়ারুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তিনি গত কয়েক বছর ধরে রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা পূর্ব পাড়ার রাজনের দোকানের এলাকায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। ওই এলাকায় ডিশ লাইনের ব্যবসার পাশাপাশি তিনি স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদক মামলাসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় শেষে পিয়ারুল ইসলাম মসজিদের উত্তর পাশের কলাপসিবল গেটের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সেখানে এসে তার গতিরোধ করেন। মুহূর্তের মধ্যে মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি অস্ত্র বের করে তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। ১৭ অক্টোবর দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন আসরের নামাজের পর সজ্জনকান্দা ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এজাহারে নিহতের স্ত্রী উল্লেখ করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

০%
০%
০%
০%