কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বেড়ে ওঠা তিনশ শিশুর পুনর্বাসনের সুপারিশ

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা ২৯৮ থেকে ৩০৩টি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ এবং সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে কারাগারের বাইরে তাদের পুনর্বাসনের জোরালো সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কারাগারের রুদ্ধ ও বন্দি পরিবেশ এসব কোমলমতি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সম্পূর্ণ প্রতিকূল হওয়ায় এই যুগান্তকারী সুপারিশ করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখার সমন্বিত মতামত নিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে দেশের কারাগারগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৮ থেকে ৩০৩টি শিশু বসবাস করছে, যার মধ্যে কেবল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারেই রয়েছে সর্বোচ্চ ৫১টি শিশু। এই শিশুগুলোর দৈনন্দিন সুরক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে নিয়মিতভাবে খেলনা, পোশাক এবং পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। তবে কারাগার কখনোই শিশু বেড়ে ওঠার উপযুক্ত স্থান হতে পারে না—এই বাস্তবতার আলোকে তাদের বিকল্প কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুন মাসে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থা জানিয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন কারা মহাপরিদর্শককে। এরই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর এই সমন্বিত প্রতিবেদনটি রিটকারী আইনজীবীর হাতে হস্তান্তর করে।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হওয়ার পর কারাবন্দি মায়ের কাছ থেকে শিশুটিকে এনে তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিকটাত্মীয়দের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্ন বা ফস্টার কেয়ারের মাধ্যমে লালন-পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো শিশুর ক্ষেত্রে যদি নিকটাত্মীয়দের কাছে যাওয়া নিরাপদ বা সম্ভব না হয়, তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ কিংবা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে তাদের রেখে সুশিক্ষ ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসলে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ। কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা এসব অসহায় ও নিষ্পাপ শিশুর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ, সুরক্ষা এবং সুস্থ শৈশব নিশ্চিত করতে আদালতের এই আদেশের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

০%
০%
০%
০%