গাজীপুরের টঙ্গীতে শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় একটি দ্রুতগামী যানের ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০) নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বাবা ও ছেলে শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁসংলগ্ন মহাসড়ক ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। রাতের বিশেষ ডিউটিতে থাকা টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্নাফ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পৌঁছে নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই আকস্মিক ও বিয়োগান্তক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের ইতোমধ্যে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘাতক যানটিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং চালককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনেরা।