চলমান নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে ড্যানি ওয়াট-হজ আবারও প্রমাণ করছেন কেন তাকে এই ফরম্যাটের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচে তিনি যে বিস্ফোরক সূচনা এনে দিচ্ছেন, তা টুর্নামেন্টের অন্য যেকোনো অধিনায়কের জন্যই ঈর্ষণীয়। এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা এই তারকা এখন কেবল মাঠেই নয়, বরং নিজের মানসিক দৃঢ়তার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন।
অথচ মাত্র তিন বছর আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন টিম বাসে বসে ড্যানি ওয়াট-হজ দুঃসংবাদটি পেয়েছিলেন। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের প্রথম নিলামে কোনো দলই তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখায়নি। সেই মুহূর্তটিকে তিনি পরবর্তীতে হৃদয়বিদারক এবং বিব্রতকর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ওঠা সব গুঞ্জন যখন মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন নিজের সক্ষমতা নিয়েই সন্দেহের দোলাচলে পড়েছিলেন তিনি। তবে ক্যাথরিন ব্রান্ট ও মায়া বুশিয়ারের মতো সতীর্থদের সাহচর্যে সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠেছিলেন এই ইংলিশ ব্যাটার।
অতীতের সেই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে ড্যানি ওয়াট-হজ বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে পরিপক্ক ও বিধ্বংসী রূপে ফিরে এসেছেন। চলমান বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস হোক কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৩ বলে ঝোড়ো ৮৯ রান—সবখানেই তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯টি বাউন্ডারি, যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্মৃতি মান্ধানার চেয়ে ৯টি বেশি। ক্যারিয়ারের ১৬ বছরে তিনি কেবল একজন হার্ড হিটার নয়, বরং দায়িত্বশীল ওপেনার হিসেবে নিজের বিবর্তন ঘটিয়েছেন।
ক্রিকেটের নিলামের নিষ্ঠুরতা অনেক সময় কিংবদন্তি খেলোয়াড়দেরও নিজেদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে। ড্যানি ওয়াট-হজ আজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন, স্টেফানি টেলরের চেয়ে তিনি পিছিয়ে আছেন মাত্র ১৫ রানে। এখন তার মূল লক্ষ্য কেবল ইংল্যান্ডকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা। যদি বিশ্বকাপের ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত তার হাত ধরেই ইংল্যান্ডের ঘরে ওঠে, তবে তা কেবল তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই পূরণ করবে না, বরং নিজের সামর্থ্য নিয়ে ওঠা যাবতীয় সংশয়কেও চিরতরে মুছে ফেলবে।