বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব নিয়ে রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর-এর ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে এই নতুন শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এর ফলে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ গড় শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ২৫ শতাংশে। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১–এর আওতায় আরোপিত এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ ১৭টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম ও তুরস্কসহ ৩৮টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতিকারী চর্চা সংশোধনে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। মূলত শ্রম অধিকার রক্ষার অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসন এই বাণিজ্য সুরক্ষা নীতি গ্রহণ করেছে, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে শুল্ক কাঠামোর জটিলতা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বিদ্যমান শুল্কহারের সঙ্গে এই নতুন শুল্কের সমন্বয় হওয়ায় রপ্তানি আয়ের ওপর তাৎক্ষণিক বড় ধরনের আঘাত আসার সম্ভাবনা কম। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ ৯০৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, যেহেতু প্রতিযোগিতামূলক দেশগুলোর ওপরও সমানুপাতিক হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তাই বাজারের ভারসাম্য খুব একটা ব্যাহত হবে না। তবে তিনি এই শুল্ক আরোপকে অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই বাড়তি শুল্কের বিষয়টি মাথায় রেখে দর-কষাকষি করছে, ফলে নতুন এই ঘোষণা বড় ধরনের চমক হিসেবে আসেনি। তবে উদ্বেগের বড় কারণ হিসেবে রয়ে গেছে ইউএসটিআর-এর আরেকটি চলমান তদন্ত। পোশাক ও সিমেন্ট খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংস্থাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন কোনো শুল্ক বা বিধিনিষেধ আসে কি না, তা নিয়েই এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।