সরবরাহ সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, ডিম, মুরগি ও সবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম এক দফা বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় তা ৬০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। পাইকারি বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, কৃষকরা বর্তমানে পাট কাটার মৌসুমে ব্যস্ত থাকায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলক কম। পাবনার সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন উৎপাদনস্থল থেকে পাইকারি হাটে পণ্য কম আসায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাইকারি হাটে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি। উৎপাদন পর্যায়ে দাম বাড়ায় চাষিরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও খুচরা পর্যায়ে এর ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। সাঁথিয়ার বোয়ালমারী হাটের আড়তদার ও চাষি রাজা হোসেন জানান, উৎপাদন খরচ না ওঠায় বিগত দিনগুলোতে চাষিরা লোকসানে ছিলেন, তবে কৃষকের ঘরে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।
এদিকে প্রোটিনের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। ফার্মের মুরগির এক ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর মহল্লার দোকানে এর চেয়েও বেশি দাম রাখা হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা তিন সপ্তাহ আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কম ছিল। রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছের দামও এক মাসের ব্যবধানে বেশ বেড়েছে, বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যস্ফীতির চরম প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। দফায় দফায় ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচা মরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও বরবটির মতো সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।