আয়কর নথি নিরীক্ষার নামে প্রতারক চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সতর্কতা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতা সাধারণের উদ্দেশে এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক শ্রেণির অসাধু প্রতারক চক্র কর নথি নিরীক্ষার ভয় দেখিয়ে এবং নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতির প্রলোভন প্রদর্শন করে করদাতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কর সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর কিংবা কোনো অননুমোদিত মাধ্যমের সাহায্য নেন না।
এনবিআর জানিয়েছে, কোনো করদাতার ফাইল নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে তা আইনসম্মত উপায়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়। সরকারি রাজস্ব বা বকেয়া কর প্রদানের প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চালানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা অথবা কোনো ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে করের অর্থ জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং কোনো কর্মকর্তারই এ ধরনের অর্থ গ্রহণের কোনো বৈধ এখতিয়ার নেই।
স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এনবিআর করদাতাদের এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো করদাতা যদি সন্দেহজনক কোনো ফোন কল বা বার্তা পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতারকদের পরিচয় নিশ্চিত হলে দ্রুত নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে কর রিটার্ন নিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০২৩-২৪ করবর্ষে এ পর্যন্ত তিন দফায় মোট এক লাখেরও বেশি করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ৫ হাজার ১৪ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। এর আগে প্রথম দফায় ১৫ হাজার ৪৯৪ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়।
নিজের রিটার্ন নিরীক্ষায় পড়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য এনবিআরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক্সেল শিটে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন ব্যবহারের মাধ্যমে করদাতারা সহজেই তাদের রিটার্নের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত কারো প্রলোভনে পড়ে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য করদাতাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।