আইসিএবির নতুন সভাপতি সাব্বীর আহমেদসহ নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে

সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার সাব্বীর আহমেদ। আগামী এক বছরের জন্য নতুন এই পরিচালনা পর্ষদ পেশাদার হিসাববিজ্ঞান খাতের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবে। গত মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মেয়াদ ১ জুলাই শুরু হয়ে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

নবনিযুক্ত সভাপতি সাব্বীর আহমেদের তিন দশকের বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের দীর্ঘ ১২ বছর কেটেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্বের শীর্ষ চার হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটিতে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দেশের অ্যাকাউন্টিং খাতের আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন পর্ষদে সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিয়াজ মোহাম্মদ, আলা উদ্দিন, আসিফুর রহমান এবং মোহাম্মদ রেদওয়ানুর রহমান। এদের মধ্যে নিয়াজ মোহাম্মদ গ্র্যান্ট থর্নটন ইন্টারন্যাশনালের সদস্য হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানির জ্যেষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পঁচিশ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা এবং ব্যবসায়িক পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, মেটলাইফ বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আলা উদ্দিন রবি আজিয়াটা ও গ্রামীণফোনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ।

এছাড়াও পর্ষদের অন্য দুই সহসভাপতি আসিফুর রহমান ও মোহাম্মদ রেদওয়ানুর রহমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং করপোরেট ফিন্যান্স খাতে বিশেষ পারদর্শী। আসিফুর রহমান হোসেন ফরহাদ অ্যান্ড কোংয়ের অংশীদার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স রিভিউয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত। অন্যদিকে রেদওয়ানুর রহমান এর আগে কেপিএমজি বাংলাদেশ ও লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আইসিএবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০ সদস্যের কাউন্সিল কমিটি নির্বাচিত হয়। এই কাউন্সিলের মধ্য থেকেই প্রতিবছর পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়, যারা সংগঠনের সামগ্রিক কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ ও পেশাদার হিসাববিদদের মানদণ্ড উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। নতুন এই পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

0%
0%
0%
0%