যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের, অমান্য করলে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর জন্য খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় তাদের বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার কারসাজি বন্ধের তাগিদ দিয়ে ট্রাম্প খুচরা বাজারে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম ২.৫০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন জনগণের স্বার্থে দ্রুত এই মূল্য হ্রাসের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তীব্র সমালোচনা করে সেখানে তেলের ওপর আরোপিত কর কমানোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অচিরেই সেখানে জ্বালানি পণ্যের চেয়ে করের পরিমাণ বেশি হয়ে যাবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাজ করছেন এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে একটি কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খুচরা বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে ভয়াবহ তেল বিপর্যয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে জ্বালানি তেলের বাজারে অনৈতিক মুনাফাখোরি বন্ধে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও দেশের খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ভোক্তাদের পকেট কাটার এই বেআইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশটির বিচার বিভাগকে দ্রুত তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ চাপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে, তবে অর্থনীতিবিদরা তাঁর এই দাবির সাথে একমত হতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে মার্কিন অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হবে।

0%
0%
0%
0%