উচ্চমূল্যের চাপে মন্থর এলপিজি বাজারের প্রবৃদ্ধি: শুল্ক কমানোর তাগিদ ব্যবসায়ীদের

রান্নার জ্বালানি হিসেবে পরিবেশবান্ধব তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি গত কয়েক বছরে দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক স্বাচ্ছন্দ্যের নাম হয়ে উঠেছিল। সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এক সময় প্রতি বছর এই জ্বালানির চাহিদা ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও, বর্তমানে আকাশচুম্বী দামের কারণে বাজার প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। বিশ্ব এলপিজি দিবস উপলক্ষে টেকসই জ্বালানির প্রসারে গুরুত্বারোপ করা হলেও, মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়া বাড়তি খরচ এখন এ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘লোয়াব’ জানিয়েছে, বাজার সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানিটি রাখতে আসন্ন বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোতে সংস্কার আনা জরুরি। বর্তমানে সিলিন্ডার উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে কর জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে চূড়ান্ত ভোক্তার ওপর। তারা উৎপাদন পর্যায়ে শুল্ক অব্যাহতি এবং সিলিন্ডারের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে।

২০১৫ সালে আবাসিক খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর এলপিজির বাজার দ্রুত বিকাশ লাভ করে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল অভূতপূর্ব, যেখানে বার্ষিক ব্যবহারের পরিমাণ ৫ লাখ ৫০ হাজার টন থেকে বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ১৫ লাখ টনে উন্নীত হয়। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের স্থিতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ফলে সিলিন্ডার গ্যাস সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল।

তবে ২০২০ সালের তুলনায় পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত দাম সত্ত্বেও বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা। পাইপলাইনের গ্যাসের সাথে তুলনা করলে এলপিজি ব্যবহারকারী একটি ছোট পরিবারের মাসিক জ্বালানি খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকায়। ব্যয় সংকোচনের চাপে অনেক পরিবার এখন বিদ্যুচ্চালিত চুলার দিকে ঝুঁকছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবহন খাতের অবস্থাও ভিন্ন নয়; এক সময়ে গাড়িতে এলপিজি ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে প্রতি লিটার ৮৭ টাকায় পৌঁছানো দাম গাড়িচালকদের নিরুৎসাহিত করছে। অথচ দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার এখনো রান্নার কাজে লাকড়ি, গোবর বা বায়োমাস ব্যবহার করছে, যা আধুনিক জ্বালানির বাজারের ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। সঠিক নীতিসহায়তা ও দামের লাগাম টেনে ধরতে পারলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এলপিজি খাতের হারানো গতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

0%
0%
0%
0%