পরিচালন ব্যয় কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায়

দেশের অর্থনীতির বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার পরিচালন ব্যয় সংকোচন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, এবারের বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হয়। করহার না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, অর্থনীতির গতিশীলতা ফেরাতে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম ও গবেষক মাহা মির্জা। সঞ্চালনা করেন চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, দুর্নীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সঞ্চালন লাইনের অভাব অথবা জনবলহীন হাসপাতাল পরিচালনার মতো ঘটনাগুলো স্পষ্টতই অব্যবস্থাপনার পরিচায়ক। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এই ধরনের অকার্যকর ও অপচয়মূলক প্রকল্প চিহ্নিত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা, কারণ এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে করদাতারা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারণী ও বাস্তবায়ন শাখাকে পৃথক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত- বাজেট সরকার
0%
0%
0%
0%