ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বৈধ বলে জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্ক ও জনমনে সৃষ্ট সংশয় নিরসন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি না হওয়ায় তাঁর নিয়োগে কোনো আইনি বাধা নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, খুরশীদ আলমের স্ত্রী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে গৃহীত তিন কোটি টাকা ঋণের একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানায় রয়েছেন। ওই ঋণটি বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও তার দায়ভার সরাসরি খুরশীদ আলমের ওপর বর্তায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান পদের অযোগ্যতা বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
খুরশীদ আলমের অতীত কর্মজীবন ও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত পুরনো অভিযোগগুলো পুনরায় সামনে আসায় মুখপাত্র সেগুলোরও সুরাহা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অতীতে খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল তা ছিল বিভ্রান্তিকর এবং তাঁর ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সঠিক ছিল না। দীর্ঘ কর্মজীবনে সেই ভুল সংশোধন করেই তিনি পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি যৌক্তিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে। কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ বা আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। দেশের বৃহৎ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।