লামায় মেরিডিয়ান এগ্রোর রাবার বাগান জবরদখলের চেষ্টা গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে অবস্থিত মেরিডিয়ান এগ্রো লিমিটেডের রাবার বাগান জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে। গত তিন মাস ধরে বাগানের পরিচর্যায় বাধা প্রদান এবং গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনায় দেশের বৃহৎ এ রাবার শিল্প এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই বাগানে দুষ্কৃতকারীদের একের পর এক হামলায় উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় কর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা মেনে ডলুছড়ি মৌজার ২৫ একর পাহাড়ি ভূমি লিজ নিয়ে মেরিডিয়ান এগ্রো লিমিটেড সমন্বিত রাবার চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প গড়ে তোলে। ২০০২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি রাবারের পাশাপাশি আম, লিচু, ড্রাগন ও বনজ গাছ সৃজন করে আসছে। এই বাগান থেকে উৎপাদিত কাঁচা রাবার দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং স্থানীয় শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী নতুন পাড়ার বাসিন্দা লাংকম মুরুং ও ইয়াংইন মুরুংসহ একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে বাগানের জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট শ্রমিকরা বাগানে চারা রোপণ করতে গেলে দা, কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা ছয়টি রাবার চারা ও দুই শতাধিক কাজু বাদাম গাছের চারা কেটে ফেলে সেখানে কলাগাছ রোপণ করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেরিডিয়ান এগ্রো লিমিটেড দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আইনসম্মতভাবে এই বাগান ভোগদখল করে আসছে। অন্যদিকে অভিযুক্তরা মাত্র পাঁচ-ছয় বছর আগে এলাকাটিতে বসতি স্থাপন করেছেন। মৌজা হেডম্যান দুর্যোধন ত্রিপুরা জানান, লিজ গ্রহীতার কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বহিরাগতরা কোনো ধরনের আইনি প্রমাণ ছাড়াই জায়গাটি নিজেদের দাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিরোধ নিরসনে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও দখলদাররা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না।
বাংলাদেশ রাবার গার্ডেন ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি কাউসার জামাল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিকল্পিত বনায়ন ও রাবার শিল্প এখন স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে সংকটের মুখে। তিনি এ শিল্পকে রক্ষা করতে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ক্যয়াজুপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ খন্দকার সেলিম শাহরিয়ার জানান, উভয় পক্ষকে আইনি উপায়ে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিরোধীয় জমিতে আপাতত কোনো কাজ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বাগান ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সচেতন মহল।
