বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা জালিয়াতি করে কলেজে চাকরি নিলেন আবুল কালাম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হিলালনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি করে সরকারি কলেজের অফিস সহায়কের চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, মরহুম সোনা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় মাটি ব্যবসা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ‘মাটি খেকো’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি উপজেলার কাশিনগর ডিগ্রি কলেজে অফিস সহায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে কাশিনগর বিএম হাইস্কুল থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করেন আবুল কালাম, যার জন্মতারিখ ২৫ মে ১৯৭৮। অথচ এই তথ্য গোপন করে তিনি নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দেখিয়ে ২০২২ সালে কাশিনগর ডিগ্রি কলেজে অফিস সহায়কের পদে যোগ দেন। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ১৯৮৮ দেখিয়ে ১০ বছর বয়স কমিয়ে ফেলেন তিনি। এই সংশোধনের জন্য তিনি আদালতে হলফনামা দিয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি থেকে কমিয়ে চতুর্থ শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রথমবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে আবুল কালাম একক প্রার্থী হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের সুপারিশে তিনি নিয়োগ বাগিয়ে নেন। কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন সেলিম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের দায়ভার তৎকালীন ডিজি প্রতিনিধি শিব প্রসাদ দাশ গুপ্তের ওপর চাপিয়েছেন। তবে শিব প্রসাদ দাশ গুপ্ত দাবি করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবের।
কাশিনগর বিএম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুস নিশ্চিত করেছেন যে, আবুল কালাম ১৯৯৪ সালে তাদের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
