বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় রায়: দুই আসামির ফাঁসি, একের ২১ বছরের সাজা

ছয় বছর বয়সী শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি এবং এক আসামিকে ২১ বছরের সাজা প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে তিনজনকে ৫০,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ৫ মাস পর, মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
নিহত শিশু হৃদয় খান নিবিড় শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন-এর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নিবিড়। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি পরিবার। সন্ধ্যার দিকে নিপা আক্তারের মোবাইলে কল আসে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে। তারা পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ প্রদানের জন্য চাপ দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি থানায় জানানো হয়। পরদিন ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে জানা গেছে, অপহরণকারীরা হৃদয়ের পরিবারের বাসায় ভাড়া থাকত।
নিহতের মা নিপা আক্তার বলেন, “টাকার জন্য ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আড়াই বছর ধরে আমি ছেলের জন্য হাহাকার করছি। এক রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। যে কিশোরকে শিশু বলা হয়েছে, সে-ই মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। তার শাস্তিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন, আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে কোনোভাবেই খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।”
বিজ্ঞাপন
আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসতিয়াক আহমদ বলেন, “এই রায়ের বিরুদ্ধে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কামরুল হাসান বলেন, “দুই আসামির বিচার হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে এবং একজনের বিচার হয়েছে শিশু আদালতে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুর পরিবার এবং স্থানীয়রা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ।