শরীয়তপুরে বিচারপতির ভুয়া ভাগ্নে পরিচয়ে জামিন তদবির, আনসার সদস্য আটক

শরীয়তপুরে নিজেকে একজন বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে আদালতে প্রভাব খাটিয়ে আসামির জামিন করানোর চেষ্টাকালে এক আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ে প্রতারণার প্রমাণ মেলায় আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে মিজানুর রহমান নামের ওই ব্যক্তি গোসারহাট থানার আমলি আদালতে উপস্থিত হন। তিনি দায়িত্বরত বিচারকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটি মামলার আসামির জামিন আদায়ের চেষ্টা করেন এবং নিজেকে একজন বিচারপতির ভাগ্নে বলে পরিচয় দেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দায়িত্বরত বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে যে নম্বরটি দেওয়া হয়, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও একই নম্বরে ফোন করলে সেটিও বন্ধ দেখায়। এতে সন্দেহ আরও গভীর হলে বিচারক আদালত প্রাঙ্গণেই সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে কোর্ট পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান জানান, তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি বর্তমানে ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য বিভাগে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত। তবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, বন্ধুর ভাইকে জামিন করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বিচারপতির ভুয়া ভাগ্নে পরিচয় ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার পর আদালতের নির্দেশে তাকে পালং মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা ও আদালতের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।