ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত)-এর বিচারক অসীম কুমার দে এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণাকালে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। বিচারকার্য চলাকালীন কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও মোতাহার হোসেন ও মনির মিয়া পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই পরিবারের অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—রুবেল মিয়া, শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম, মোছা. জিয়াসমিন, খাদিজা বেগম এবং নবীর হোসেন।
মামলার এজাহার ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, নিহত মানিক মিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিবেশী মনির মিয়ার সাথে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ বিষয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। এরই জেরে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছা মাত্রই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মানিক মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরদিন নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পুলিশ ১১ জন আসামির মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং অপর দুজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ, নিবিড় যুক্তিতর্ক ও সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামি পক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম জানান, তারা সব আসামির খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলার মূল আসামিরাই আঘাত করে মানিক মিয়াকে হত্যা করেছিল এবং আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সঠিক রায় দিয়েছেন।