প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরিণয় এবং পরবর্তীতে পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে বিচ্ছেদের মাত্র আট থেকে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে মর্মান্তিক আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন নেত্রকোনা ও গাজীপুরের এক সাবেক স্বামী-স্ত্রী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রাম থেকে মো. সাকিব মিয়া (২৩) নামের এক দিনমজুর যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তার সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জের আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে সাকিব দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার পূর্বের সংসার ও একটি সন্তান থাকার পরও প্রায় তিন মাস আগে তিনি আপন মামাতো বোন মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে রেজিস্ট্রি মূলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্ক জানাজানি হলে উভয় পরিবারে তীব্র কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের কঠোর চাপে বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য হন এই দম্পতি এবং ঘটনার ২০-২৫ দিন আগে মুক্তাকে তালাক দেন সাকিব। বিচ্ছেদের পর মুক্তা চলে যান গাজীপুরের শ্রীপুরের বাবার বাড়িতে।
সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় চরম মানসিক হতাশায় গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান মুক্তা। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর পর আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয়দের না জানিয়ে রাতের মধ্যেই তার মরদেহ মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা বাবুল মিয়া। মঙ্গলবার সকালে যখন তরুণীর দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই খবর আসে সাবেক স্বামীর মৃত্যুর। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সোমবার মধ্যরাতে নিজ ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সাকিব।
গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান জানান, সাকিব অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং দিনমজুরের কাজ করতেন। তার আগের সংসার ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও এই নতুন বিয়ে এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে এই আকস্মিক মৃত্যুর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি এই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল জানান, উদ্ধারকৃত উভয় মরদেহের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক লক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনা দুটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিচ্ছেদের জেরে সৃষ্ট তীব্র হতাশা থেকেই তারা এই চরম পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, শ্রীপুরে আত্মহত্যার পর পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময়ে মঙ্গলবার সকালে সাকিবের ঝুলন্ত মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মুক্তার মৃত্যুর বিষয়টি শ্রীপুর থানাকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।