নেত্রকোনার হাওর থেকে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ: হুমকির মুখে মৎস্য সম্পদ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর ও জলাশয় থেকে আশঙ্কাজনক হারে হারিয়ে যাচ্ছে মিঠাপানির দেশি প্রজাতির মাছ। অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চিত্রল, বাগাইড়, শিলং, রিঠা, রানী, কাজলী ও বাচাসহ অন্তত অর্ধশত প্রজাতির সুস্বাদু মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এক যুগ আগেও এসব মাছের প্রাচুর্য ছিল হাওরাঞ্চলে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
বিশেষজ্ঞরা ও স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালি এসে নদী ও বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির গভীরতা কমে গেছে, যা মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রকে সংকুচিত করেছে। খুরশিমূল গ্রামের প্রবীণ জেলে নিখিল চন্দ্রের মতে, হাওরের গভীরতা কমে যাওয়ায় গভীর পানির মাছগুলো টিকে থাকতে পারছে না। এছাড়া জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলাশয়ে বিষাক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট প্রয়োগ মাছের বংশবিস্তারে মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির নেতা মাছুম আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার মাছের পোনা নিধনে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে বর্তমানে হাওরে আগের মতো দেশি মাছের দেখা মেলে না বললেই চলে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক রিয়াদ মিয়া জানান, দেশের মূল্যবান এই সম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান জানিয়েছেন, দেশি মাছের প্রজনন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছর একাধিক অভিযান চালিয়ে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হাওরের মৎস্য সম্পদ চিরতরে হারিয়ে যাওয়া রোধে মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও হাওরবাসী মনে করেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে অবৈধ জাল ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
