সরাইলে মেঘনা তীরের ভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনে বিলীন হচ্ছে শত শত বসতভিটা ও স্থাপনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে নদীর গ্রাসে একের পর এক বসতভিটা, চাতালকল, মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি স্থায়ী কোনো তীর রক্ষা বাঁধ। ফলে প্রতি বর্ষায় নতুন করে সহায়-সম্বল হারাচ্ছেন এই জনপদের শত শত মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নদীর অব্যাহত তোড়ে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি চাতালকল ও শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে অবশিষ্ট গ্রামগুলো।
পানিশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. তৌহিদ মিয়া জানান, পালপাড়া, সাখাইতি, শোলাবাড়ি ও দেওবাড়িয়া গ্রামের কয়েকশ পরিবার চরম ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছে। একসময় এ এলাকাটি অর্ধশতাধিক চাতালকলের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নদী ভাঙনের কারণে ৮০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই বিলীন বা বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পই এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরব থেকে আসা ২০-২৫টি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই পানিশ্বর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে পানিশ্বর বাজারসহ বিশাল জনপদ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরাইল শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহসিন কবির শিহাব জানান, নদীভাঙন রোধে ১ হাজার ৩৫০ মিটার তীর সংরক্ষণ কাজের একটি প্রস্তাব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে আপাতত কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে নদীভাঙনের শিকার অসহায় বাসিন্দারা দ্রুত টেকসই ও কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।