তিস্তা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও ও বিক্ষোভ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। রোববার দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের চরম দুর্ভোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবরই উদাসীন। তিনি জানান, সহায়-সম্বল হারিয়ে মানুষ যখন নিঃস্ব হওয়ার পথে, তখন কর্তৃপক্ষ নামমাত্র পরিদর্শন ছাড়া কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয় না। নিজের খরচে নির্মিত রাস্তাসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা।

সাবেক গ্রাম পুলিশ ইনতাজ আলী দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, দীর্ঘ জীবনে তিনি ২৮ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এখন আর ঘর তৈরির মতো অবশিষ্ট কোনো জমি বা সহায়তাকারী নেই বললেই চলে। আব্দুল রশিদ নামের আরেক বাসিন্দা জানান, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ যখন কৃষি কাজে ব্যস্ত, তখন তিস্তা পাড়ের মানুষ কেবল বসতভিটা ও জমি রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বলেন, জিও ব্যাগ ফেলা ও ঠিকাদার নিয়োগের আশ্বাস দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো কার্যক্রমই শুরু হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সরকারি কোনো সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এদিকে, চরম অসহায়ত্বের শিকার স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ তাদের বসতভিটা রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ ও দোষী ব্যক্তিদের উদাসীনতার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%