ভোলায় বাস ও সিএনজি মালিকদের বিরোধে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা

ভোলা জেলায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে থ্রি-হুইলার সিএনজি চলাচলের বৈধতা ও যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা নিয়ে বাস মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভোলা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি। তারা সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা অভিযোগ করেন যে, ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণ আইচা পর্যন্ত মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সিএনজিগুলোতে তিনজনের পরিবর্তে পাঁচজন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এর আগে গত ২১ মে ২০২৫ ও ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সতর্ক করা হলেও সিএনজি চালকরা তা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছরে সিএনজির বেপরোয়া গতির কারণে শতাধিক যাত্রী ও পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। মালিক সমিতি স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট এই বিশৃঙ্খলার জেরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার তারা নেবে না। এ সময় সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে হাসান মাসুদুর রহমান, মুনতাসির আলম রবিন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সেলিম ও জিহাদ ভূইয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভোলা জেলা সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দেশের ৪৭টি জেলায় সিএনজিতে পাঁচজন যাত্রী পরিবহনের নিয়ম থাকলেও ভোলায় তার ব্যতিক্রম ঘটছে। বাসের রুট পারমিট ও নিয়মনীতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলে একে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দ্রুত এই বৈষম্য নিরসনের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%