কৃষক কার্ডে অনিয়ম হলে সরাসরি বরখাস্তের হুঁশিয়ারি ডেপুটি স্পিকারের

নেত্রকোণার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় কোনো ধরনের ঘুষ ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার রাতে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কৃষক কার্ড তৈরিতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম হলে দায়ীদের শুধু বদলি নয়, সরাসরি বরখাস্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শুরুতে স্থানীয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হলেও প্রকৃত দুস্থ, অন্ধ ও প্রতিবন্ধীরা বঞ্চিত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে তওবা করার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি নিজে যেমন দুর্নীতি করব না, তেমনি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং এই সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের পাওনা এক টাকাও হেরফের হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর।

কৃষি খাতের আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেই ক্ষান্ত হবে না, বরং আগামীতে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ায় ধান রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবনী সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা আগাম জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন, যা কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন।

0%
0%
0%
0%