চকরিয়া ও মাতামুহুরিতে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ পাহাড়ধসের শঙ্কায় প্রশাসন

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরি নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিচু এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার ফলে জনজীবন থমকে গেছে এবং বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষা কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টি ও ঢলের তীব্রতায় অনেক এলাকায় পানি কোমর ছাড়িয়ে হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছেছে। পানিবন্দি মানুষেরা গত দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন। অনেক পরিবার রান্না করতে না পারায় অনাহারে-অর্ধাহারে সময় কাটাচ্ছেন, সেইসঙ্গে গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়েও তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে, এই দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা বা খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় প্রশাসন বারবার মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। ঢলের পানিতে কৃষকের বীজতলা ও মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, শান্তির বাজার, বিবিরখিল, পহরচান্দা, রসুলাবাদ ও হিন্দুপাড়াসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সোনাইছড়ি নদীতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমন্নির ঘাটা এলাকায় সড়ক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে, যা পুরো ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চকরিয়া ও মাতামুহুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শুকনো খাবার বিতরণের কাজ চলছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের স্লুইসগেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

0%
0%
0%
0%