উখিয়ায় পাহাড় ধসে মাদরাসা চাপা পড়ে ৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়লে মাদরাসার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রটি মাটির নিচে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত ওই মাদরাসাটিতে আকস্মিক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কতজন মানুষ বর্তমানে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী ও আশ্রয় নেওয়া মানুষের জীবনের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে মোট ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে সোমবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটজন এবং মঙ্গলবার কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধসের এমন தொடர்ச்சী ঘটনায় স্থানীয়রা শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দোষীদের অবহেলার তদন্তসহ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
