নাটোরের আব্দুলপুর কলেজে জালিয়াতির শিকার ৮ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও অভিযুক্ত কর্মচারী কারাগারে

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় আটকে পড়া আট পরীক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। শনিবার সকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন। এরপরই তারা পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, মো. শিমুল শেখ, মো. আকিবুল, মো. শিমুল, মো. শাওন, মো. সাব্বির ও মো. তানভীর হোসেন। জানা গেছে, গত ১২ মার্চ অনলাইনে ফরম পূরণের জটিলতা নিরসনে বিলম্ব ফিসহ সাড়ে তিন হাজার টাকা করে অফিস সহকারী অমিত কুমারের কাছে জমা দিয়েছিলেন ওই শিক্ষার্থীরা। অমিত তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তা করেননি, ফলে প্রথম দিনের পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরিন আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ইমামুল হক বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত অমিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়ে অভিযুক্ত অমিত কুমারের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।