উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তরের জনপদে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার পানিতে পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম ও মরিচসহ বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা। নদীতীরবর্তী অনেক এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির চাপ সামাল দিতে ৪৪টি জলকপাটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় নদী তীরবর্তী গড্ডিমারী, দোয়ানী ও সিঙ্গামারি ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকায় নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সীমান্তের উভয় পারে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রেখেছে। দুর্গতদের সহায়তায় শুকনো খাবার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

0%
0%
0%
0%