লক্ষ্মীপুরে নির্যাতনের পর গৃহবধূর মৃত্যু অভিযুক্ত স্বামী পলাতক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে যৌতুকের দাবি ও দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী হাফিজ মোল্লার অমানুষিক নির্যাতনে সামিয়া আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

নিহত সামিয়ার স্বজনরা জানান, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করেছিলেন হাফিজ মোল্লা। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনায় তিনি সামিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত হাফিজ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও একাধিক বিয়ে করা হাফিজের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েই সামিয়াকে অকালে প্রাণ দিতে হলো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৬ জুন হাফিজ পরিকল্পিতভাবে সামিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে লোক দেখানো চিকিৎসার নাটক সাজিয়ে তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার রাতে সামিয়ার মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং স্বজনদের দাবি, মারধরের পর তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ২৫ জুন তিনি রামগঞ্জ থানায় হাফিজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নিজের মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে সামিয়া। শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাণ দিয়ে এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হলো।

বিজ্ঞাপন

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দাপ্তরিক নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা ঘাতক হাফিজ মোল্লাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%