খালেদা জিয়াকে উপহারের পর আলোচিত কালো মানিকের মালিক সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা বাজার থেকে সোহাগ মৃধা নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ কাওসার আহমেদের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে সোহাগ মৃধা দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মারামারির মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি এবং পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপর মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। এসব আইনি জটিলতার জের ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে সোহাগের পরিবারের দাবি, তিনি স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
সোহাগ মৃধা মূলত আলোচিত হয়ে ওঠেন তার লালনপালন করা একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়কে কেন্দ্র করে। প্রায় সাত বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে কেনা ফ্রিজিয়ান জাতের গাভীর বাছুর থেকে জন্ম নেওয়া এই ষাঁড়টিকে তিনি পরম মমতায় বড় করেন। এক হাজার ৮০০ কেজি ওজনের ১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার কালো রঙের এই ষাঁড়টির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কালো মানিক’।
রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সোহাগ মৃধা গত বছরের ৫ জুন ষাঁড়টি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য ঢাকার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নিয়ে যান। সে সময় বেগম জিয়া উপহারটি গ্রহণ করে পরে তা ফেরত দেন। ওই ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদ উপহারও পেয়েছিলেন সোহাগ। পরবর্তীতে গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগে উত্তরার দিয়াবাড়ির পশুর হাটে ষাঁড়টি বিক্রি করলে পুনরায় গণমাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন।