রাজশাহীতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে দীর্ঘ টোকেন নম্বরে নাভিশ্বাস

রাজশাহীতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ টোকেন নম্বর নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতদিন ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর দিয়ে সহজে রিচার্জ করা গেলেও, বর্তমানে অনেক গ্রাহকের মোবাইলে ২২০ থেকে ২৫২ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ টোকেন পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধের পরও এই দীর্ঘ সংখ্যা মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
প্রযুক্তিগত জটিলতার এই নতুন ধারায় বিশেষ করে বয়স্ক, স্বল্পশিক্ষিত এবং প্রযুক্তিতে অনভ্যস্ত গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক সরদার আব্দুর রহমান বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেসকোর এই প্রক্রিয়াকে গাণিতিক বিড়ম্বনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, একটি মিটার রিচার্জের জন্য এতগুলো সংখ্যা ভুল ছাড়াই ইনপুট দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এক প্রকার অসম্ভব যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।
নগরীর রাজপাড়া ও শালবাগান এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘ এই সংখ্যা তুলতে গিয়ে বারবার ভুল হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কারো কারো বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে এই দীর্ঘ টোকেন প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যার ফলে বিদ্যুৎ সেবা পেতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিতে হচ্ছে। সুলতানাবাদ এলাকার অনেক গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত খাতা-কলমে নম্বর মিলিয়ে রিচার্জ করার মতো ক্লান্তিকর পথ বেছে নিচ্ছেন।
নেসকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ বা মূল্যতালিকা মিটারে হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যেই প্রথমবারের মতো এই দীর্ঘ টোকেন পাঠানো হচ্ছে। নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং নতুন মূল্য সংযুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, গ্রাহকরা যেন এসএমএসে দেওয়া ২০ ডিজিটের অংশগুলো আলাদাভাবে প্রবেশ করিয়ে এন্টার চাপেন।
তবে জ্বালানি ও ভোক্তা অধিকার বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই হঠাৎ এমন জটিল প্রযুক্তি চাপিয়ে দেওয়া অমানবিক। সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করার বদলে উল্টো ডিজিটাল সেবাকে দুর্বোধ্য করে তোলা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দিকনির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহে জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজতর করতে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নামে সাধারণ গ্রাহকের ওপর এমন দায় চাপানোয় জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ছিল এসএমএস, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আগে থেকেই গ্রাহকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। বর্তমানে রাজশাহীর পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে, যা ডিজিটাল সেবার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।