ওসমানীনগরের ইউএনও মুনমুন নাহারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় সাধারণ কর্মীকে জরিমানা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এখন তুঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ‘আপা’ ডাকার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় তিনি তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান।

নির্বাচনকালীন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন থেকে ঝুঁকি বিবেচনায় ২০টি কেন্দ্রের জন্য ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও, তিনি সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে কৌশলে প্রায় কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তার স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’কে যুক্ত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে বেআইনিভাবে পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান হাইকোর্টে রিট করলে আদালত রুল জারি করে। শুধু তাই নয়, ইউএনও মুনমুন রাজস্ব খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও কর্মীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি চাল মজুত থাকার অভিযোগে তাজপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীকে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও ফুডগ্রেইন সনদ না থাকার দোহাই দিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় মেলায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ শ্রমিককে জেল ও জরিমানা দিলেও মূল আয়োজকদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসন কর্তৃক সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের বিপরীতে ওসমানীনগরে ইউএনওর এমন বেপরোয়া আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে তার এসব কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

0%
0%
0%
0%